The Expozious Desk: আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারের টানাপোড়েনের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করল রাশিয়া। দেশটির সরকার জানিয়ে দিয়েছে, ভবিষ্যতে ভারতে কত পরিমাণ অপরিশোধিত তেল পাঠানো হচ্ছে সেই নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান আর প্রকাশ করা হবে না। ক্রেমলিনের তরফে বলা হয়েছে, এই তথ্য গোপন রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে নিরাপত্তা ও কৌশলগত কারণে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দফতরের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানান, তেল রফতানি সংক্রান্ত পরিমাণগত তথ্য প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত ইচ্ছাকৃতভাবেই নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং “অনেক শত্রুপক্ষ নজর রাখছে”, তাই এসব তথ্য প্রকাশ করা ঠিক হবে না।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল, রাশিয়া খুব অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ভারতের দিকে পাঠাতে পারে। এমনকি এক সপ্তাহে প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহের সম্ভাবনার কথাও শোনা যায়। এই প্রসঙ্গেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ক্রেমলিন স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, তারা আর কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত বাড়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাও এখনও বহাল। ফলে তেল বাণিজ্য নিয়ে অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ করলে তা রাজনৈতিক চাপ বা কূটনৈতিক জটিলতা বাড়াতে পারে।
তবে রাশিয়া এও ইঙ্গিত দিয়েছে যে, ভারতের মতো বড় বাজারে তেল সরবরাহ চালু থাকবে। রুশ উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক জানিয়েছেন, প্রয়োজনে ভারত ও চীনে তেল সরবরাহ আরও বাড়ানোর জন্য তারা প্রস্তুত। কারণ এই দুই দেশই বর্তমানে রাশিয়ার জ্বালানি রফতানির গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতা।
উল্লেখ্য, ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা দেশগুলি রাশিয়ার ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এরপর থেকেই এশিয়ার বাজার—বিশেষ করে ভারত ও চীন—রাশিয়ার তেল রফতানির বড় কেন্দ্র হয়ে ওঠে। সেই প্রেক্ষাপটেই এবার রাশিয়া তথ্য গোপন রাখার কৌশল নিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন