The Expozious Desk: কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী এবং পেনশনভোগীদের জন্য আবারও বড় সুখবরের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বহু প্রতীক্ষিত মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (Dearness Allowance) বাড়ানোর বিষয়ে কেন্দ্র সরকার শিগগিরই সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে। সাধারণত প্রতি বছর দু’বার—জানুয়ারি এবং জুলাই মাসকে ভিত্তি ধরে ডিএ সংশোধন করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের প্রথম ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা মার্চের শেষ বা এপ্রিলের শুরুতেই হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা মূল বেতনের উপর ৫৮ শতাংশ ডিএ পাচ্ছেন। এটি কার্যকর হয়েছিল ২০২৫ সালের জুলাই মাস থেকে। তবে গত কয়েক মাসে মুদ্রাস্ফীতি এবং খরচের চাপ বাড়ার কারণে নতুন করে ডিএ বৃদ্ধির দাবি জোরালো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিল্প শ্রমিকদের ভোক্তা মূল্য সূচক (AICPI-IW) অনুযায়ী হিসাব করলে এবার ডিএ প্রায় ২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। যদি তা হয়, তাহলে মোট ডিএ দাঁড়াবে প্রায় ৬০ শতাংশে।
যদিও কিছু রিপোর্টে ৩ শতাংশ বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথাও বলা হচ্ছে, তবে সরকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা করেনি। সাধারণত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি হলে কর্মীদের বেতনে সেই বাড়তি অর্থ যোগ হয়।
ডিএ বাড়লে শুধু মাসিক বেতনই নয়, আরও কয়েকটি ভাতায় পরিবর্তন আসে। বিশেষ করে ট্রান্সপোর্ট অ্যালাউন্সের উপরও এর প্রভাব পড়ে। ফলে কর্মীদের হাতে পাওয়া মোট বেতন কিছুটা বাড়ে।
উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক, যদি কোনো কর্মীর মূল বেতন ৩০ হাজার টাকা হয় এবং ডিএ ২ শতাংশ বাড়ে, তাহলে প্রতি মাসে প্রায় ৬০০ টাকা অতিরিক্ত ডিএ পাওয়া সম্ভব। একইভাবে যাদের বেসিক পে বেশি, তাদের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধি আরও বেশি হতে পারে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সরকার যখনই নতুন ডিএ ঘোষণা করে, সেটি সাধারণত ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর ধরা হয়। ফলে ঘোষণার পর কর্মীরা কয়েক মাসের বকেয়া (arrears) টাকাও একসঙ্গে পেয়ে থাকেন।
সব মিলিয়ে মার্চ মাসের শেষ দিকে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা বড় ঘোষণা পেতে পারেন কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে লক্ষ লক্ষ কর্মী ও পেনশনভোগী।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন