শিরোনাম: ট্রাম্প NATO-কে 'কাপুরুষ' বলে ক্ষোভ উগরালেন – ইরান যুদ্ধে সাহায্য না করায় জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে হুমকি


 The Expozious Desk: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও তার NATO মিত্রদের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে (বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার অভিযানে) ইউরোপীয় NATO সদস্যরা সাহায্য করতে অস্বীকার করায় তিনি তাদের "কাপুরুষ" (cowards) বলে আখ্যা দিয়েছেন। ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, "Without the U.S.A., NATO IS A PAPER TIGER!" – অর্থাৎ আমেরিকা ছাড়া NATO একটা কাগজের বাঘ মাত্র।

পটভূমি: গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাচ্ছে, যার ফলে ইরান হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) বন্ধ করে দিয়েছে। এতে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়েছে এবং জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। ট্রাম্প NATO মিত্রদের (ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি সহ) যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে প্রণালী নিরাপদ করতে বলেছিলেন। কিন্তু বেশিরভাগ ইউরোপীয় দেশ সাফ জানিয়ে দিয়েছে – "এটা আমাদের যুদ্ধ নয়" (It's not our war)। জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, "আমরা এটা শুরু করিনি।"

ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া: গত কয়েকদিনে তিনি একাধিকবার বলেছেন যে NATO "very foolish mistake" করছে। তিনি হুমকি দিয়েছেন যে এতে জোটের ভবিষ্যৎ "very bad" হবে। এক পর্যায়ে বলেছেন, আমেরিকার আর সাহায্য লাগবে না – "We no longer need, or desire, the NATO countries' assistance." কিন্তু একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন যে NATO দেশগুলো আমেরিকাকে সাহায্য না করলে ভবিষ্যতে আমেরিকাও তাদের পাশে থাকবে না।

NATO-এর অবস্থান: ইউরোপীয় নেতারা বলছেন, ট্রাম্প তাদের সঙ্গে আগে আলোচনা না করেই ইরানে হামলা শুরু করেছেন। এটা NATO-এর Article 5 (সামূহিক প্রতিরক্ষা) এর আওতায় পড়ে না। তাই তারা সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে চান না। কিছু দেশ (যেমন ব্রিটেন) বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে ভাবছে, কিন্তু সরাসরি ট্রাম্পের অভিযানে যোগ দেয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মত: অনেকে বলছেন, ট্রাম্পের এই আচরণ Transatlantic সম্পর্ককে আরও দুর্বল করছে। ইতিমধ্যে তিনি NATO-কে নিয়ে বছরের পর বছর সমালোচনা করেছেন (যেমন ডিফেন্স খরচ কম, Greenland কেনার কথা বলা ইত্যাদি)। এখন যখন সাহায্য চাইছেন, তখন মিত্ররা পিছিয়ে যাচ্ছে।

এই ঝামেলা শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে – NATO থেকে আমেরিকা বেরিয়ে যাবে কি না – তা এখনও অনিশ্চিত। কিন্তু তেলের দাম বাড়তে থাকলে বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ আরও বাড়বে।

মন্তব্যসমূহ