The Expozious Desk: ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগেই নন্দীগ্রামের রাজনীতিতে নাটকীয় মোড়। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগের ভিত্তিতে তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করেছে নির্বাচন কমিশন। অভিযোগ উঠেছে, পবিত্র কর এখনও ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) একজন সক্রিয় সদস্য এবং বয়াল গ্রাম পঞ্চায়েতের নির্বাচিত বিজেপি সদস্য হওয়া সত্ত্বেও পদত্যাগ না করেই তৃণমূলের প্রতীকে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।
গত বুধবার শুভেন্দু অধিকারী প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, কীভাবে একজন নাগরিক একসঙ্গে দুটি দলের সদস্য হতে পারেন? তাঁর দাবি অনুযায়ী, পবিত্র কর এখনও বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য এবং নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী আগের পদ থেকে ইস্তফা না দিয়ে অন্য দলের প্রতীকে লড়াই করা বেআইনি। এই অভিযোগ সামনে আসার পরপরই কমিশন সক্রিয় হয় এবং নন্দীগ্রাম থানায় পবিত্র করের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। তবে পবিত্র কর একে ভিত্তিহীন দাবি করে জানিয়েছেন যে তিনি আইন মেনেই সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। বর্তমানে এই বিতর্কিত মনোনয়ন ঘিরে সরগরম রাজ্য রাজনীতি, যার নিষ্পত্তি হতে পারে কলকাতা হাইকোর্টে।
আইনি জটিলতা ও সম্ভাব্য ফলাফল
পবিত্র করের এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে যে সকল আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে তার কয়েকটি সম্ভাব্য দিক নিচে আলোচনা করা হলো:
- প্রার্থিপদ বাতিল (Cancellation of Nomination): যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে পবিত্র কর তাঁর পূর্ববর্তী রাজনৈতিক পদ বা দলের সদস্যপদ থেকে যথাযথভাবে ইস্তফা দেননি, তবে নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের দায়ে নির্বাচন কমিশন তাঁর প্রার্থিপদ বাতিল করতে পারে।
- অযোগ্যতা (Disqualification): জনপ্রতিনিধিত্ব আইন বা দলত্যাগ বিরোধী আইনের (Anti-Defection Law) আওতায় পঞ্চায়েত সদস্য হিসেবে তাঁর অবস্থান বিচার্য হতে পারে। পদত্যাগ না করে অন্য দলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা 'অফিস অফ প্রফিট' বা দলত্যাগ বিরোধী আইনের পরিপন্থী হিসেবে গণ্য হতে পারে।
- ফৌজদারি মামলা (Criminal Charges): তথ্য গোপন বা হলফনামায় ভুল তথ্য প্রদানের অভিযোগ প্রমাণিত হলে পবিত্র করের বিরুদ্ধে ফৌজদারি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। ইতিমধ্যে রুজু হওয়া এফআইআর-এর ভিত্তিতে পুলিশি তদন্তের মুখেও পড়তে পারেন তিনি।
- আদালতের হস্তক্ষেপ: গ্রেফতারি বা মনোনয়ন বাতিলের আশঙ্কায় তিনি যদি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন, তবে আদালত অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ বা রক্ষাকবচ প্রদান করতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কমিশনের তদন্ত রিপোর্টের উপর নির্ভর করবে।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন