বিরিয়ানি হলো, আলোচনা হলো না—ইসলামাবাদ থেকে খালি হাতে ফিরলেন জেডি ভ্যান্স


The Expozious Desk: 
পাকিস্তানের আতিথেয়তা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই, কিন্তু কূটনীতি নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠে গেল। ২১ ঘণ্টা ধরে ইসলামাবাদের এসি রুমে বসে ম্যারাথন আলোচনা, কয়েক দফা চা-নাশতা আর শাহী বিরিয়ানি ধ্বংস করার পর মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানালেন—আসল কাজের কাজ অর্থাৎ 'চুক্তি' কিছুই হয়নি।
ঘটনার প্রেক্ষাপট:
ইরান আর আমেরিকার ঝগড়া মেটাতে পাকিস্তান নিজেকে 'শান্তির পায়রা' হিসেবে পেশ করেছিল। লক্ষ্য ছিল ইসলামাবাদে বসে দুই চিরশত্রুকে গলায় গলাগলি করিয়ে দেওয়া। কিন্তু ২১ ঘণ্টা পর দেখা গেল, গলাগলির বদলে দুই পক্ষ কেবল একে অপরের দিকে 'তেজালো দৃষ্টি' বিনিময় করেই শান্ত থেকেছে।
ভ্যান্সের 'হতাশ' বয়ান:
আলোচনা শেষে বিমানে ওঠার আগে জেডি ভ্যান্স বেশ বিরক্তির সুরেই বললেন, "ব্যাড নিউজ হলো আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি।" সহজ ভাষায়—আমেরিকা বলেছিল ‘এটা আমাদের ফাইনাল অফার’, আর ইরান সোজা সাপটা বলে দিয়েছে ‘মানি না’। ভ্যান্সের কথায় মনে হচ্ছিল, পাকিস্তানের গরম আর এই দীর্ঘ আলোচনার পর তিনি এখন শুধু নিজের দেশে ফিরে শান্তির ঘুম দিতে চান।
পাকিস্তানের 'উত্তম মধ্যম' ভূমিকা:
পাকিস্তান এই আলোচনার জন্য স্টেজ সাজিয়েছিল রাজকীয়ভাবে। কিন্তু আলোচনার মাঝপথেই পাকিস্তানের রক্ষণমন্ত্রী খাজা আসিফ হঠাৎ ইজরায়েলকে এক হাত দেখে নিয়ে এমন গরম গরম ভাষণ দিলেন যে, আলোচনার টেবিলের তাপমাত্রা এসি-র বদলে খাজা সাহেবের গরমেই বেড়ে গেল। কূটনীতিকরা বলছেন, "মেহমানদের ঝগড়া মেটাতে গিয়ে বাড়ির লোকই যদি লাঠি ঘোরায়, তবে শান্তি আসবে কোত্থেকে?"
রিপোর্টের হাইলাইটস:
  • মেনু হিট, রেজাল্ট ফ্লপ: ২১ ঘণ্টার আলোচনায় তেলের দাম কমুক বা না কমুক, ইসলামাবাদের হোটেলের বিল যে আকাশছোঁয়া হয়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
  • পরমাণু বিতর্ক: ভ্যান্স চেয়েছিলেন ইরান যেন পরমাণু অস্ত্রের নামও না নেয়, কিন্তু ইরান জানিয়ে দিয়েছে তারা তাদের ‘খেলনা’ (পরমাণু কর্মসূচি) ছাড়ছে না।
  • এখন কী হবে? ভ্যান্স বলেছেন, "বল এখন ইরানের কোর্টে।" কিন্তু পাকিস্তান ক্রিকেট টিমের ফিল্ডিংয়ের যা দশা, সেই বল ইরান ধরবে নাকি বাউন্ডারির বাইরে পাঠাবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
উপসংহার:
পাকিস্তান শেষমেশ দুই পক্ষকে এক টেবিলে বসাতে পেরেছে ঠিকই, কিন্তু তাদের নিজেদের আর্থিক অবস্থা আর রাজনৈতিক গোলমালের মাঝে এই 'শান্তি মিশন' কতটা কাজে আসবে, তা নিয়ে নেটপাড়ায় এখন মিমের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। আপাতত শান্তি চুক্তির বদলে যা পাওয়া গেছে তা হলো—ভ্যান্সের একরাশ বিরক্তি আর পাকিস্তানের একরাশ মেহমানদারির খরচ।


মন্তব্যসমূহ