হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন অবরোধ শুরু, ইরান-সংযুক্ত জাহাজই মূল লক্ষ্য — বাড়ছে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা


 THE EXPOZIOUS DESK: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও এক ধাপ বেড়ে গেল। Donald Trump-এর নির্দেশে হরমুজ প্রণালীতে সামরিক নজরদারি ও আংশিক অবরোধ শুরু করেছে আমেরিকা।

এই সিদ্ধান্ত আসে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার পর, যা কোনও সমাধান ছাড়াই ভেস্তে যায়। প্রায় ২১ ঘণ্টার বৈঠকের পরও দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতায় পৌঁছতে পারেনি।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, এই অবরোধের মূল লক্ষ্য ইরানের অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করা। যে সমস্ত জাহাজ ইরানের বন্দরে প্রবেশ করবে বা সেখান থেকে বেরোবে, সেগুলিকেই নজরদারির আওতায় এনে আটকানো হতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক জলপথে স্বাভাবিক যাতায়াতকারী এবং ইরানের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয় এমন জাহাজগুলিকে বাধা দেওয়া হবে না।

এই পদক্ষেপের পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ইরানের বিরুদ্ধে ‘অবৈধ টোল’ নেওয়ার অভিযোগ। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করতে গিয়ে কিছু দেশকে ইরানকে শুল্ক দিতে হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক নিয়মের পরিপন্থী।

অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকেও কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে। দেশটির রেভলিউশনারি গার্ড সতর্ক করেছে, কোনও সামরিক আগ্রাসন হলে তা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হবে এবং তার জবাব দেওয়া হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের প্রায় ২০% তেল সরবরাহ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে হয়। ফলে এই অবরোধ শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, গোটা বিশ্বের জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে এবং শিপিং সংস্থাগুলি ঝুঁকি এড়াতে বিকল্প পথ খুঁজতে শুরু করেছে। 

বর্তমানে পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল, এবং সামান্য উসকানিতেই বড় সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মন্তব্যসমূহ